1. pragrasree.sraman@gmail.com : ভিকখু প্রজ্ঞাশ্রী : ভিকখু প্রজ্ঞাশ্রী
  2. avijitcse12@gmail.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ১১:৫৬ অপরাহ্ন

ব্যারিস্টার ড. অরবিন্দ বড়ুয়া’র জীবনী

প্রতিবেদক
  • সময় সোমবার, ৬ আগস্ট, ২০১৮
  • ১৭৬০ পঠিত

জিতু চৌধুরী :
উনিশ শতকের শেষর্ধ থেকে বিশ শতকের প্রথম দশক পর্যন্ত চট্টগ্রামে যে সকল মনীষী বিভিন্ন ক্ষেত্রে সর্বভারতীয়মান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন । তাদের মধ্যে ড. অরবিন্দ বড়ুয়ার নাম বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য । ড. অরবিন্দ বড়ুয়া ১৯০৭ সালে ২২শে মার্চ চট্টগ্রাম জেলার পাহাড়তলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন । মহামুনি এ্যাংলো পালি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথমবার ম্যাট্টিকুলেশন পরীক্ষাগায় ১৯২২ সালে যে ২৪ জন ছাত্র উর্ত্তীন হয়েছিল, সে পরীক্ষায় ২৪ জনই প্রথম বিভাগ পেয়েছিল । ড. অরবিন্দ ছিলেন তাদের অন্যতম । তার কাকা রেবতী রমন বড়ুয়া ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট । ১৯২৯ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এ পাশ করেন । ড. অরবিন্দ বড়ুয়া ১৯৩০ সালে উচ্চ শিক্ষার জন্য বিলেত গমন করেন এবং যুগপৎ গ্রে’জ ইন এবং স্কুল অব ওরিয়েন্টাল স্টাডিজ এ যোগদান করেন । ১৯৩৩ সালের মধ্যে দুটি ডিগ্রিই অর্জন করেন । ড. অরবিন্দ বড়ুয়া ভারতীয় বৌদ্ধদের মাঝে লন্ডন ইউনিভার্সিটি থেকে প্রথম পি এইচ ডিগ্রি এবং গ্রে’জ ইন থেকে প্রথম বার এট ল ডিগ্রি লাভ করে ছিলেন । লন্ডনে গিয়েছিলেন আই সি এস পড়বার জন্য কিন্তু ভারত খ্যাত দার্শনিক সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণণ তাকে দর্শন বিষয়ে অধ্যয়ন করবার জন্য পরামর্শ দেন । তিনি বৌদ্ধ দর্শনে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন । একই সঙ্গে লন্ডন থেকে ব্যারিস্টারি ও পাশ করেন । বাঙ্গালী বৌদ্ধদের মধ্যে তিনি প্রথম ব্যারিস্টার । এটা তার অসাধারন মেধার পরিচয় বহন করেন । লন্ডন থেকে দেশে ফিরে আইন ব্যবসা শুরু করেন ।
সে সময় তিনি অভিভক্ত ভারতের বঙ্গীয় বিধান সভায় বাংলার গর্ভনর স্যার জন অ্যান্ডারসন কর্তৃক বৌদ্ধ স্বার্থ সংরক্ষন বিষয়ক সদস্য মনোনীত হয়েছিলেন । এই প্রথম বার একজন বৌদ্ধ হিসেবে ড. অরবিন্দ বড়ুয়া বঙ্গীয় আইন সভায় স্থান করে নিয়েছিলেন । উল্লেখ্য, তালতলা বাসভবনে বঙ্গীয় বৌদ্ধ সমিতি বা বেঙ্গল বুড্ডিষ্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কতালা নিবাসী ডা: শান্ত কুমার চৌধূরী, ড. বেনী মাধব বড়ুয়া, ডিষ্ট্রিকট রেজিষ্ট্রার বাবু অধর লাল বড়ুয়া, এডভোকেট ভূপেন্দ্র লাল মুৎসুদ্দি, ডেপুটি মেজিষ্ট্রেট বাবু রেবতী রমন বড়ুয়া, ড. অরবিন্দ বড়ুয়া, ধর্মাদিত্য ধর্মাচারিয়া প্রমুখ নেতৃবৃন্দের বৈঠকে বৌদ্ধদের দাবি সম্বলিত এক “মেমোরেন্তাম” (স্মারক পত্র) রচনা করা হয় এবং বৃটিশ পার্লামেন্টের প্রত্যেক মন্ত্রী ও সদস্যগনের নিকট প্রেরন করেন, ইহার ফলে নতুন ১৯৩৫ সানের ভারত শাসন আইন নামে খ্যাত বঙ্গীয় সভায় বৌদ্ধদের একজন প্রতিনিধি গ্রহনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় । প্রথমে ড. অরবিন্দ বড়ুয়া এবং দ্বিতীয় বার রায় বাহাদূর ধীরেন্দ্র লালা বড়ুয়া এম, এ, বি, এল মনোনয়ন লাভ করে সংখ্যা লঘুতম বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষার অধিকারী লাভ করেন ।
১৯৩৫ সালে ড. অরবিন্দ ভাষনে বলেন, ভারত শাসন আইনে বৌদ্ধদিগকে শাসন ব্যাপারে কোন স্বতন্ত্র অধিকার না দেওয়াতে তাঁহাদের প্রতি যে অবিচার করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোন কাহারো সন্দেহ থাকিতে পারে না । সত্য বটে বাঙ্গালী বৌদ্ধদের সংখ্যা অতি অল্প কিন্তু তথাপি যদি ২,৮০০ এংলো ইন্ডিয়ানদের জন্য চারটি সদস্য পাইতে পারে, তাহলে ৩,৩০,০০০ বঙ্গীয় বৌদ্ধরা তাহাদের সংখ্যানুরুপ সদস্য কেন পাইবে না ?
তাঁহাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠা ও ঐক্যের মধ্য দিয়ে বাঙ্গালী বৌদ্ধরা নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল ।
সেই ভাষনে রাজেন্দ্র প্রসাদ, জহুরলাল নেহেরু, সুভাষ চন্দ্র বসু, শরৎ চন্দ্র বসু, শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়, শেরে বাংলা ফজলুল হক প্রমুখ বিখ্যাত রাজনীতিবিদদের দৃষ্টি আকর্ষক করতে সক্ষম হয়েছিল । গৌতম গাথা গ্রন্ত্রের লেখক আন্তজাতিক খ্যাতিমান শিল্পী অসিত কুমার হালদার এর কন্যা অতশী হালদার এর সাথে ১৯৩৭ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন ড. অরবিন্দ বড়ুয়া । জোড়াসাকোর ঠাকুর পরিবারের মহষি দেবেন্দ্র নাথ ঠাকুরের প্রপৌত্রী ছিলেন এই অতসী হালদার । এই সূত্রে ড. অরবিন্দ বড়ুয়া ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ভাবে সম্পর্কিত হলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং ভারতীয় শিল্পী চূড়ামনি সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে ।
তিনি মহাবোধি সোসাইটির সাধারন সম্পাদক, বুদ্ধগয়ায় আন্তজাতিক ভাবনা কেন্দ্রের সভাপতি ছিলেন । ইন্ডিয়ান বুড্ডিস্ট কাউন্সিলের সহ: সভাপতি এবং WEFB এর সহ সভাপতি ছিলেন । ড. অরবিন্দ বড়ুয়া বেঙ্গল বুড্ডিস্ট এসোসিয়েশনের ১০ বছর সভাপতি ছিলেন এবং তাহার জ্ঞাতি ডা: শান্ত কুমার চৌধুরী ৮ বছর সাধারন সম্পাদক দায়িত্ব পালন করে সমাজ ধর্ম পরিচালনা করেছেন । ১৯৮২ সালে ১৭ সেপ্টেম্বর ৭৫ বছর বয়সে পরলোক গমন করেন ।

তথ্যঃ ব্যারিস্টার ড. অরবিন্দ বড়ুয়া স্মারক
২০১২ সাল
পৃ: ১১,১২,১২,১৫,১৬,২২
তথ্যঃ ডাঃ রবীন্দ্রনাথ নাথ বড়ুয়া লিখিত ভাষন
১৯৮৫ সাল
পৃ: ৬,৭, ১১

শেয়ার দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো
© All rights reserved © 2019 bibartanonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazarbibart251
error: Content is protected !!