1. pragrasree.sraman@gmail.com : ভিকখু প্রজ্ঞাশ্রী : ভিকখু প্রজ্ঞাশ্রী
  2. avijitcse12@gmail.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
দ্বাদশ সংঘরাজ ড.ধর্মসেন মহাথেরোর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শুরু সংঘরাজ ড. ধর্মসেন মহাথেরো : জ্ঞান বাতিঘর, এক মহাজীবন কাব্যের প্রস্থান সংঘরাজ ড. ধর্মসেন মহাথেরোর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বাণী পটিয়ায় দ্বাদশ সংঘরাজ ড.ধর্মসেন মহাথেরোর অন্তোষ্টিক্রিয়া আগামীকাল শুরু চট্টগ্রাম মহানগর বাংলাদেশ বুডিস্ট গ্রুপ সংগঠনের শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ বুধবার ক্লোজআপ ওয়ানখ্যাত সংগীতশিল্পী নিশিতা বড়ুয়ার বিয়ে পরলোকে বর্ষীয়ান গীটার শিল্পী মানবেন্দ্র বড়ুয়া মারমা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন এর উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস অহিংসা ধারণ করে ধর্মসেন মহাস্থবিরের আদর্শ অনুসরণ করতে হবে : বীর বাহাদুর সংযুক্ত আরব আমিরাত বৌদ্ধ বিহারে অভিনেতা গগন মল্লিক সংবর্ধিত

বৌদ্ধ ধর্ম ও রাহুল সাংকৃত্যায়ন

প্রতিবেদক
  • সময় শুক্রবার, ১২ জানুয়ারী, ২০১৮
  • ৯২৮ পঠিত

জিতু চৌধুরী:

রাহুল সংকৃত্যায়ন (১৮৯৩-১৯৬৩) সংস্কৃত বিদ্যাসেবি রণশীল সম্ভ্রান্ত ব্রাক্ষন পরিবারে ১৮৯৩ সালে ৯ এপ্রিল ভারতের উত্তর প্রদেশের আজমগড় জেলার পানহা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহন করেন । নাম রাখা হয় কেদারনাথ পান্ডে । রাহুলের বাবার নাম গোবর্ধন ও মাতার নাম কুলবন্তী । রাহুলের মাতা মাত্র ২৮ বছর বয়সে মারা যান । অনাথ কেদারনাথকে লালন পালন করেন স্নেহময়ী মাতামহী । রাহুলের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আরম্ভ হয় মাদ্রাসায় ১৮৯৮ সালে । মাদ্রাসাতে রাহুল উর্দু ভাষা রপ্ত করেন । ১৯০৭ সালে স্কুল পালিয়ে কলকাতায় চলে আসেন । সেই থেকে রাহুলের ভ্রমনের নেশা পেয়ে বসে । ১৯১০ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে প্রথাসিদ্ধ জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে সাধু জীবন বিভিন্ন স্থানে ভ্রমন করেন । তিনি একজন প্রগতিশীল লেখক । সংস্কৃতি ও পালি বিদ্যাচর্চা ছিল তার প্রধান বিষয় । স্বশিক্ষিত মহাপন্ডিত রাহুল বহু বিষয়ে অগাধ পান্ডিত্য অর্জন করেছিল । সাহিত্য রচনা ও ভ্রমণর অনুসঙ্গ হিসেবে বিভিন্ন তীর্থ, বিহার, ঐতিহাসিক স্থান ও দেশ পরিভ্রমণ করেছেন আর লিখেছেন হিন্দী, সংস্কৃত, পালি, ইংরেজী, ভোঁজপুরী এবং তিব্বতি এ ছয়টি ভাষায় । এক কথায় রাহুল সংকৃত্যায়ন ছিলেন ভাষা, শিক্ষা, সাহিত্য, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক গগণে প্রতিভাময় এক উজ্জল নক্ষত্র ।

১৯১৩ সালে পারাসা মঠ ত্যাগ করে করে দক্ষিন ভারতের আসানসোল, আদ্রা, খড়গপুর, পুরী, মাদ্রাজ, তিরুমালাই ভ্রমন করেন । এই সময় তিনি তামিল ভাষা শিখেন । ১৯১৫ সালে তার অন্তর্জীবনের বৈদান্তিক পর্ব শেষ করে আর্য সমাজী প্রচারকদের সংঙ্গে যুক্ত হন ।
১৯১৫ সালে কেদারনাথ আগ্রায় আর্য মুসাফির বিদ্যালয়ে ভর্তি হন । এই সময় কেদারনাথ ভেকধারী সাধুদের গোড়ামি এবং তারা কিভাবে গৃহস্তদের প্রতারণা করে তার মুখোশ খুলে দেওয়ার জন্য আগ্রার উর্দু পত্রিকা “মুসাফির” এবং মীরাটের হিন্দী পত্রিকা ভাস্কর এ প্রবন্ধ লেখা শুরু করেন । ১৯১৬ সালে আর্য সমাজীদের শক্ত ঘাঁটি লাহোরে যান । ১৯১৯ সালে লাহোর সামরিক আইন জারী কেদারনাথের মনে গভীর রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ ঘটায় । তখন রাহুল তার ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে তাঁর মনের প্রতিক্রিয়া জানাতে লাগলেন । মঠ কিংবা আর্য সমাজীদের সঙ্গে তাঁর সকল সর্ম্পক ছিন্ন করে ক্রমে বৌদ্ধ ধর্ম ও দর্শন সর্ম্পকে লেখাপড়া করতে লাগলেন। ১৯২৩ সালে রাহুল বুদ্ধের প্রথম ধর্ম প্রচার স্থথান সারনাথ, বুদ্ধের নির্বাণভূমি কুশীনগর, জন্মস্থান লুম্বিনী প্রভৃতি বৌদ্ধ তীর্থস্থানগুলো দর্শন করেন । এরপর একে একে কপিলাবস্তু সাবস্তী, রাজগীর, নালন্দা ভ্রমন করেন । নেপাল ভ্রমনের সময় বহুসংখ্যকক বৌদ্ধ মনীষী ভিক্ষুর সংঙ্গের সংস্পর্শে আসেন । ১৯২৭ সালে শীলংকার বিহারে সংস্কৃত অধ্যাপক পদে যোগদান করেন এবং বৌদ্ধ ধর্ম চর্চ্চায় আরো ব্যাপপক মনোনিবেশ করেন । দেড় বছরের মধ্যে রাহুল ত্রিপিটকের ৪০ খন্ড পালি ভাষায় অধ্যায়ন করে এবং ত্রিপিটককাচার্য উপাধি পান । ১৯৩০ সারে দ্বিতীয়বার সিংহলে যান, তখন তিনি বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষা নেন ২৮ জুন, ১৯৩০ সাল । নিজেই নতুন নাম রাখলেন রাহুল সংককৃত্যায়ন । রাহুল চার বার তিব্বতে গিয়ে বৌদ্ধ দর্শন নিয়ে গবেষণা (১৯২৯,১৯৩৪,১৯৩৬ ও ১৯৩৮) করেন ।
তিব্বত থেকে বৌদ্ধ মনীষী নাগাজুন, বসুবন্ধু, প্রজ্ঞাকর প্রমুখের অতি মূল্যবান পুঁথি, পুস্তকাদি, পান্ডলিপি সংগ্রহ করে আনেন । ১৯২৮ সালে অসহযোগ আন্দলনে প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন । জনমত সংঘটিত করার কারনে ১৯২২ সালে কারাবন্দি হন । একই সাথে জেলা কাংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন । ১৯৩৯ সালে রাহুল কমিউনিষ্ট পাটির সদ্যস পদ লাভ করেন । রাহুলের প্রথম সাহিত্য জীবনে বৌদ্ধ ধর্ম ও সংস্কৃতি বিষয়কে প্রথম গ্রন্ত্র বুদ্ধচর্চা । এটি ১৯২৯ সালে প্রথম তিব্বত যাত্রার পর ১৯৩০ সালে সালে শ্রীলংকায় গ্রন্ত্রটি রচনা করেন । এছাড়া ও অনেক বই পুস্তক রচনা করেছেন । ১৯৬১ সালে ভারত সরকার “পদ্মভূষণ” উপাধি দিয়ে এই মহামনীষীর মেধা এবং অবদানের স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হন । ১৯৬৩ সালের ১৪ এপ্রিল মহাপরিব্রাজক, মহাপন্ডিত রাহুল সংকৃত্যায়ন মৃত্যু বরন করেন ।

তথ্য: ড. জগন্নাত বড়ুয়া
সহকারী অধ্যাপক, পালি বিভাগ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
১৩৯,১৪০,১৪১,১৪২,১৪৩ পৃষ্ঠা

তথ্য: অধ্যাপক শিমুল বড়ুয়া
মিরসরাই কলেজ
অর্থনীতি বিভাগ
১৪৬,১৪৭,১৪৮ পৃষ্ঠা

প্রাচীন পুঁথিপত্র ও পান্ডুলিপি সংগ্রহ সত্যানুসন্ধ্যানী, জ্ঞানপিপাসু রাহুল সাংকৃত্যায়ন গভীর বৌদ্ধবিদ্যা পুনরুদ্ধারে উৎসক ও অনুসন্ধিৎসায় চারবার তিব্বত গমন করে মোট তিন বৎসর অবস্থান করেন । আর এস শর্মা উল্লেখ করেছেন, রাহুল নেপাল ও তিব্বত থেকে প্রাচীন বৌদ্ধ ইতিহাস, সভ্যতা, ঐতিহ্য, ধর্মদর্শন ও বাংলা সাহিত্যের চর্যা নিদর্শনের দুষ্প্রাপ্য মহামূল্যবান জেলাগ্রাফ, পান্ডুলিপি ৩৬৮ টি বৌদ্ধ সংস্কৃত গ্রন্ত্রের পান্ডুলিপি এবং তালপাতা ও কাঠের খুদাই পুঁথিপত্র সংগ্রহ করেন । এছাড়া তিনি ৬১৯ টি পান্ডুলিপি তিব্বত ভাষায় এবং কিছু অনুবাদ সংস্কৃত ও অন্যান্য ভাষায় অনুবাদ করেন । তাছাড়া রাহুল ৫৫ টি প্রাচীন পুঁথির আলোকচিত্র সংগ্রহ করেন । তিনি ১৫০ টি থ্যাংকা (চিত্রপট) ও ৮০ টি মূল্যবান মিশ্রসংস্কৃত ভাষার বৌদ্ধ গ্রন্ত্রের পান্ডলিপি ক্রয় করেছিলেন । বৌদ্ধ মহাযান ও বজ্রযানী দেবদেবীর ১৩০ টি কাপড়ে আকা ছবি সংগ্রহ করেন ।

তথ্য: ড. জগন্নাত বড়ুয়া
সহকারী অধ্যাপক, পালি বিভাগ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
১৪৪ পৃষ্ঠা

রাহুল সংস্কৃত্যায়নের মতে, ভারতের বৌদ্ধ ধর্মের বিলোপ সাধন ত্রয়োদশ চতুদর্শ শতকে আরম্ভ হলে ও তার কারণ গড়ে উঠেছে বহুকাল আগে থেকে । বৈশালীর দ্বিতীয় সঙ্গীতির পর থেকে বৌদ্ধ ধর্মে বহু মতবাদের সৃষ্টি হওয়ায় অনুসারীরা বহু দলে-উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ে । কনিষ্কের আমল থেকে মূর্তি গড়া আরম্ভ হয় । বুদ্ধ বোধিসত্ত্বকে মানব সত্ত্বারূপে না মেনে দেবতার আসনে প্রতিষ্ঠিত করা হল । বুদ্ধ বোধিসত্ত্বের জীবনদর্শনের সাধনা ছেড়ে দেবতা জ্ঞানে পূজার্চনা শুরু হয় । তাছাড়া, অসংখ্য দেব দেবতার সৃষ্টি করে অন্যান্য ধর্মের উপাস্য দেব দেবতার সংখ্যা অতিক্রম করে ফেলল । জীবন দুঃখের অবসান ঘটাবার উদ্দেশ্যে বুদ্ধ প্রদর্শিত সাধন মার্গ পরিত্যাগ পূর্বক পূজার্চনার নানা বিধি আবিস্কার করল এবং মহা ধুমধামে পূজার্চনা আরম্ভ হয়ে গেল । বোধিজ্ঞান, নির্বাণ মুক্তি কঠোর সাধন সাপেক্ষ রইল না । পূর্জার্চনার মাধ্যমে নির্বাণ মুক্তি সুলভ, সহজ সরল বলে বিবেচিত হল । মহযান ও তন্ত্রযান বৌদ্ধ ধর্মে ধারণী, চক্র সংবর এবং তৎসম্পর্কিত ইত্যাদি তপ-জপ ও তন্ত্র-মন্ত্রের প্রভাবে বৌদ্ধ ধর্ম এমন এক পর্যায়ে এসে পৌঁছাল, যার বৌদ্ধ ধর্মের প্রকৃত সত্ত্বা, বৈশিষ্ট্য ও মৌলিক আদর্শ উৎপাটিত হয়ে বৈদিক ধর্মের পুনর্জাগরনের বিরাট সহায়তা করল । বৌদ্ধ ধর্মের মূল আদর্শ ধরে রাখার মহান ব্যক্তিত্বের অবসান ঘটল । এভাবে ধর্মের বিলোপ সাধিত হল ।

তথ্য: ভারতে বৌদ্ধ ধর্মের উত্থান পতন
মহাপন্ডিত রাহুল সংকৃত্যায়ণ
১২ পৃষ্ঠা

রাহুলের লেখাই চমৎকার ভাবে ফুটে উটেছে বৌদ্ধ ধর্ম কিভাবে বিকৃতি হয়েছে । এতে কারো কোন সন্দেহ থাকিতে পারে না । এই ব্যাপারে আমি ও আর কিছুই বলতে চাই না ।

শেয়ার দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো
© All rights reserved © 2019 bibartanonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazarbibart251
error: Content is protected !!