1. pragrasree.sraman@gmail.com : ভিকখু প্রজ্ঞাশ্রী : ভিকখু প্রজ্ঞাশ্রী
  2. avijitcse12@gmail.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:১৬ পূর্বাহ্ন

গ্যাংটকের নালন্দা ইনস্টিটিউট

প্রতিবেদক
  • সময় বুধবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০১৭
  • ২৯৪ পঠিত

কর্মা শ্রী নালন্দা ইনস্টিটিউট (কেএসএনআই) উচ্চতর বৌদ্ধ শিক্ষার জন্য সর্বজনস্বীকৃত একটি প্রতিষ্ঠান। ষোড়শ গায়ালাং কার্মাপা ইনস্টিটিউটটি প্রতিষ্ঠা করেন। ভারানসাইয়ের সম্পূর্ণানত সংস্কৃত ইউনিভার্সিটির সঙ্গে এটি যুক্ত।কর্মা শ্রী নালন্দা এবং সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আচার্য ডিগ্রি (মাস্টার্স অব বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ) এবং কাও-রাবজাম্পা ডিগ্রি (ধর্মশাস্ত্রের ওপর ডক্টরেট) লাভ করা হয়। ১৩ থেকে ১৫ বছরের বৌদ্ধ ভিক্ষুদের জন্য নালন্দা সন্ন্যাস লাভের কলেজ। বংশ পরম্পরায় এখানকার শিক্ষকেরা মঠাধ্যক্ষ ও ভিক্ষু শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত হন।

বিবিআইএন (বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল) মৈত্রী ৠালির অংশ হিসেবে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে সৌভাগ্য হয় এ প্রতিষ্ঠান দেখার। বাংলাদেশি হিসেবে সিকিমে প্রবেশ করতে যেমন আলাদা অনুমতি লাগে, তেমনি এই মঠে প্রবেশ করতেও পাসপোর্ট জমা দিতে হয়।

সিকিমের রাজধানী গ্যাংটক থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে রামটেকে সন্ন্যাসীদের প্রধান মঠ অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫ হাজার ৮০০ ফুট (১ হাজার ৫৪৭ মিটার) ওপরে রামটেক অবস্থিত। এখানে গরমের সময় তাপমাত্রা হয় ১৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর শীতে সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাই মার্চ থেকে মে অথবা অক্টোবর থেকে মধ্য ডিসেম্বর পর্যন্ত রামটেক ভ্রমণের ভালো সময়।

বিকেল গড়িয়ে যখন প্রায় সন্ধ্যা তখন ৠালিতে অংশগ্রহণকারীরা পৌঁছায় মঠ প্রাঙ্গণে। সেখান থেকে হিমালয়ের চূড়া দেখা যাচ্ছিল।

তিব্বত বুদ্ধ শিক্ষার জন্য এখানে গুণগত পড়াশোনা করানো হয়। প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে- বৌদ্ধ দর্শন, মনোবিজ্ঞান, বৌদ্ধ ইতিহাস, তিব্বত সাহিত্য, কলা, ইংরেজি, হিন্দি, পালি, সংস্কৃত এবং অন্যান্য তিব্বতিয়ান শিক্ষা।

শীত এবং গ্রীষ্মে এখানে সাধারণের জন্য দু’টি অনুষ্ঠান হয়। শুফ্রু তিব্বেতান ক্যালেন্ডারের চতুর্থ চন্দ্র মাসে গুরু রিনোপচি অথবা ভাজ্রাকিলায়া অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠান চলে প্রায় দশদিন ধরে। শেষ দিনে গুরু পাদমাসামভাবা, ইয়েদাম এবং অন্যান্য অবতারদের উদ্দেশে ধর্মীয় নৃত্য চলে। এছাড়াও বছরের শেষ চন্দ্র মাসে মহাকাল অবতারকে ঘিরেও অনুষ্ঠান চলে। এটা ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে হয়। এটাই তিব্বতের নতুন বর্ষের অনুষ্ঠান।

শিলিগুড়ি থেকে ১১৪ কিলোমিটার দূরের পথ গ্যাংটক। আর নতুন জলপাইগুড়ি থেকে ১২৫ কিলোমিটার।

তিব্বতিয়ান বৌদ্ধচর্চার কাজিয়ু নির্দেশনার গুরু ষোড়শ গায়ালাং কার্মাপা ১৯৮১ সালের নভেম্বরে কার্মা শ্রী নালন্দা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন। বৌদ্ধ ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রাচীন ভারতে প্রসিদ্ধ নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের নামানুসারেই এ কলেজের নামকরণ হয়।

 

এখানে রয়েছে বেশ কয়েকটি শ্রেণিকক্ষ, ছাত্রদের আবাসিক ভবন, সমৃদ্ধ পাঠাগার। মূল ভবনটি তিব্বতের ঐতিহ্যবাহী কাঠামোয় নির্মিত, যেখানে রয়েছে উজ্জ্বল রংয়ের ব্যবহার। বৌদ্ধ শিল্পকলার ছাপ রয়েছে এখানকার নির্মাণে।

ভোর ৪টায় মূল অডিটোরিয়ামে প্রার্থনা ও বন্দনার মধ্য দিয়ে এখানে শিক্ষার্থীরা তাদের দিন শুরু করেন। এরপর সকাল ৬টায় ক্লাস শুরু হয় এবং সাড়ে ১১টায় শেষ হয়। শিক্ষার্থীরা নিজেদের ব্যক্তিগত শিক্ষা এবং অধ্যয়নের কাজটি করেন বিকেল ও সন্ধ্যায়। রাত ৯টায় খাবার খাওয়ার মধ্য দিয়ে রুটিন সমাপ্ত হয়।

এখানকার বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা আসেন মূলত হিমালয় অঞ্চল থেকে। শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই তিব্বতের শরণার্থী। এছাড়াও ভুটান, নেপাল, লাদাখ, সিকিম এবং ভারতের অন্যান্য অঞ্চল থেকে শিক্ষার্থী আসেন। আর শিক্ষকেরা বেশিরভাগই স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে থাকেন।

নিরাপত্তা তল্লাশির পরই মঠে প্রবেশ করতে হয়। এরপর খোলা চত্বরের মাঝখানে একটি দণ্ডাকৃতির প্রস্থরে ধর্মীয় স্তুতি লেখা। এখানে দুইতলা থেকে আরো স্পষ্ট দেখা যায় হিমালয় চূড়াকে।

শেয়ার দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো
© All rights reserved © 2019 bibartanonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazarbibart251